একটি আদিবাসী মায়ের কান্না| Tapan's Blog
![]() |
আদিবাসী মা |
নৃসংশতা, বর্বরতার আতংকে থাকা ছোট্ট শিশুটিও এখন প্রতিদিনের ন্যায় সময় ঘনিয়ে আসলে মা'কে বলে ওঠে "মা কখন পালাবো"। কারণ প্রত্যকটা দিন ঘর ছেড়ে বনে জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে থাকতে শিশুটির রীতিমত একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই শিশুটি সময় আসলে নিজ থেকে তার মা'কে বলে ওঠে "মা কখন পালাবো?"!!!
একটি দিনের জন্য সন্তানকে কোলে রেখে নিজ ভিটেমাটিতে নিজ পরিশ্রমে গড়া ছোট্ট কূড়েঘরটিতে শান্তির পরশ খনিতে এখন আর মায়ের ঘুমানোর সুযোগ হয়ে উঠেনা।কখন না কখন জলপায়ীরা এসে বন্দুকের নল তাক করে সন্তানকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সন্তানের অস্তিত্বহীন নিথর দেহ'টি মাটিয়ে লুটিয়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়, সেই আতংক থাকে মায়ের ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে সবসময়! কখন যে নিজের স্বতিত্ত্বকে সন্তানের সম্মুখে হরন করে দেয়া হয়, সেই নিরাপত্তাহীনতায় মা থাকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর সংকিত।শধু এখানেই থেমে নেই, জলপায়ী নরপিশাচদের দানবিয় হিংস্র থাবায় স্বামী হারানোর ভয় থাকে সবসময়! ভাই হারানোর ভয় থাকে সবসময়! বোন হারানোর ভয় থাকে সবসময়! আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি হারানোর ভয় থাকে সবসময়। স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের একটা অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জাতিগোষ্ঠীদের উপর এভাবেই চলছে রাষ্ট্রীয় মদদে সেনাবাহিনী, সেটেলার বাঙালী কতৃক নিপিড়ন, নির্যাতন সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অরাজকতা।স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারহীনতায় সর্বোত্রই রাষ্ট্রযন্ত্রের নামান্তর স্বাধীন গণতান্ত্রিক চেতনায় বৈষম্য সহ শোষন বঞ্চনার শিকার পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জাতীগোষ্ঠীর মানুষগুলো।একটা স্বাধীন দেশের মাটিতে যেখানে মানুষগুলো তাদের স্ব-স্ব মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে স্বাধীনতাকে মন প্রাণ ভরে অনুভব করার কথা সেখানে স্বাধীন দেশের মানুষগুলোকে থাকতে হচ্ছে ভয়ংকর এক পরাধীনতার গোলক বৃত্তে বন্দি হয়ে!!! লজ্জা! লজ্জা! লজ্জা।স্বাধীন বাংলার স্বাধীনতা এখন দানবতায় ভরা! স্বাধীন বাংলার গণতন্ত্র এখন নৃসংশতায় ভরা! স্বাধীন বাংলার সংবিধান এখন বর্বরতায় ভরা! স্বাধীন বাংলার স্বাধীন চেতনা এখন সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভরা---------।
Comments
Post a Comment
Why?