Posts

মহান নেত্রী কল্পনা চাকমার ৪৫'তম জন্মদিন আজ

আজ ১'লা মে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপ্লবী নারীনেত্রী কল্পনা চাকমার ৪৫'তম জন্মদিন। ১৯৭৬ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের এক শ্রমঘনিষ্ঠ পরিবারে জন্ম হয় বিপ্লবী নারী নেত্রী কল্পনা চাকমার। পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা "কল্পনা চাকমা" ছিলেন বেশ অন্তর্মূখী ও শান্ত স্বভাবের। শৈশব থেকেই চরম দারিদ্র, সামাজিক বৈষম্য, নারী পুরুষের ভেদাভেদ ও জাতিগত নীপিড়ন-নির্যাতন দেখে বড় হয়েছেন কল্পনা চাকমা। নিজেকে বোঝার সাথে সাথেই ছাত্রজীবন থেকে(এসএসসি পাশ করার পরে) যোগ দেন পার্বত্য চট্টগ্রামের লড়াকু নারী সংগঠন "হিল উইমেন্স ফেডারেশন"-এর সাথে। হিল উইমেন্স ফেডারেশনকে অন্যায় ও বৈষম্যর প্রতিবাদী মঞ্চ হিসেবে পেয়ে রপ্ত করলেন রূখে দাড়ানোর মন্ত্র। শৈশবে বাবা হারানো, চরম দুর্দিন, অভাব-অনটন ও মানবেতর জীবনের সাথে অনবরত লড়াই করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হয়েছিলো কল্পনা চাকমাকে। শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজেকে হতাশ হতে দেয়নি। আগামীর অদম্য স্পৃহা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছিলো সামনের সম্ভাবনায়। লিঙ্গ বৈষম্য, নারীর প্রতি ধর্মীয় অবজ্ঞা, জাতিগত নিপীড়...

অধিকারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করা কেন দল বা সংগঠন সন্ত্রাসী হতে পারেনা।

1947 সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দুইভাগ হয়ে 14' আগস্ট সৃষ্টি হয় "পাকিস্তান" এবং 15 আগস্ট সৃষ্টি হয় "ভারত" নামক রাষ্ট্র। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম-পাকিস্তানের অবহেলা আর বৈষম্য। 1940 সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মুসলীম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে একাদিক আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার কথা থাকলেও "মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ" লাহোর প্রস্তাব পরিবর্তন করে ঘোষণা করেন একাদিন আলাদা রাষ্ট্র গঠন না হয়ে একটি মাত্র রাষ্ট্র গঠন করা হবে এবং সেটি হবে পাকিস্তান। তার সেই ঘোষণার কারণে বাঙালীদের মনে জন্ম হয় হতাশা। কারণ বাঙালী মুসলমানরা চেয়েছিলো ভারতের পূর্বাংশ নিয়ে একটি স্বাধীন বাঙালী মুসলূম রাষ্ট্র গঠন করতে। কিন্তু 1946 সালের 9 এপ্রিল দিল্লিতে মুসলীম লীগের দলীয় আইন সভার এক কনভেনশনে নীতিবহির্ভূতভাবে "জিন্নাহ" লাহোর প্রস্তাব সংশোধনের নামে ভিন্ন একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এখান থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় 1940 সালের লাহোর প্রস্তাবের উপরে ভিত্তি করে নয়, 1947 সালের 9 এপ্রিল দিল্লি প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করেই জন্ম সৃষ্টি...

ভূ-রাজনীতির ডামাডোলে পাহাড়ে পোশাকি ঐক্যর ফেরিওয়ালারা বেশ সরগরম

Image
প্রথমে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির দিকে একটু করে চোখ বুলিয়ে দেখি। অনেক দিন ধরেই বলাবলি হচ্ছে, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে। ক্ষমতার ভর অনেকটাই বেইজিংয়ের দিকে সরে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে চীন অনেকটাই বিশ্বকে দখলে নিয়েছে। এখন সামরিক শক্তি প্রকাশের পালা। ভারতই চীনের আগ্রাসী সামরিক শক্তির প্রথম শিকার হতে পারে। হঠাৎ করেই যেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বদলে গেল। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি পুরোটাই কবজায় নেয় ভারত। এই অঞ্চলের রাজনীতিতে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে চলতো। কিন্তু জঙ্গিবাদ, তালেবানসহ নানা সংকটে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তান নিজেই এখন অস্তিত্ব নিয়ে লড়ছে। ভূ-রাজনীতির ডামাডোলে পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত ঐক্যের ফেরিওয়ালারা মাঠে নেমেছে। মনে হয় যেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পক্ষে এদের অবস্থান। তাহলে আমি বলতে চাই, ঐক্যের পূর্ব শর্ত কি শুধুই ফেসবুকে চিল্লাচিল্লি করা? ফেসবুকে শুধুমাত্র ঐক্য-ঐক্য করে চিল্লাচিল্লি, চেঁচামেচি ও চিৎকার করলে ঐক্য হয় না, ঐক্য আসতে পারে না। ঐক্য চাইলে আগে ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য এই পদ্ধতি অন...

সেনাতন্ত্রের দাবানলে অস্তিত্বের সংকটে আদিবাসীরা|Tapan's Blog

Image
আমরা দেখেছি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা কেমন ভয়াভহ ছিলো। ৯ মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ বাপ-ভাইয়ের জীবন উৎসর্গ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুন্ঠনের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয় বাংলাদেশ নামক দেশটি। বাঙালী জাতীর স্বাধীনতা লাভের মূলে ব্যাপক পরিসরের ভূমিকা ছিলো আদিবাসীদেরও। পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো আদিবাসীদের আবাসভূমি। ৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ নামক দেশটির একটা অংশ ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই শুরু হয়েছিলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় বর্বর ইতিহাস। তখন থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা নানাভাবে জাতীগত বৈষম্য থেকে শুরু করে নির্যাতন, নিপীড়ন, গণহত্যা সহ ভূমি উচ্ছেদের শিকার হয়ে আসছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র কতৃক। সেসময়েও সেনাবাহিনী মানেই ছিলো পাহাড়ের আদিবাসীদের একটি বিরাট আতংকের নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বাস্তবতানুসারে এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ পরিস্থিতি। এখনো আদিবাসীরা বাংলার স্বাধীন সার্বভৌমত্বের কাছে চরম অনিরাপদ। নিরাপত্তাহীন...

পাহাড়ে অভাব,অনতন,বৈষম্য ও করোনা ভাইরাস:একটি প্রাসঙ্গিক ভাবনা| Tapan's Blog

Image
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় অনেক অনেক দুর্গম এলাকা আছে। সেসব দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় করোনার পূর্ববর্তী স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও চরম খাদ্য সংকটে থাকে সেখানকার স্থানীয় পাহাড়ী আদিবাসীরা। তাঁরা দিনমজুর করে দিনে এনে দিনে খায়। কখনো কখনো দিনে তিন বেলার এক বেলা খেয়ে পেটের ক্ষুদা নিবারণের অতৃপ্ততা নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হয় তাদের। পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে যাতায়তের সু-ব্যাবস্থা নেই, চিকিৎসা সেবার সু-ব্যাবস্থা নেই, শিক্ষা ব্যাবস্থা ঠিক নেই, বাজারজাত করণের সুবিধা নেই। সামাজিক, অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে ঐ দুর্গম পাহাড়ী এলাকার মানুষগুলো রাজনৈতিকভাবেও অনেক পিছিয়ে পড়া। শ্রমশক্তি, উৎপাদন শক্তি তাদের হাতে ন্যাস্ত থাকলেও অর্থনৈতিক ভিত্তির অপ্রতুল্যতার কারণে তারা সেগুলোকে যথাযথভাবে প্রয়োগীক অর্থে ব্যাবহার করতে পারছে না। তার মধ্যে আরেকটা বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বাজারজাত করণের অপর্যাপ্ত যাতায়ত ব্যাবস্থা। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল গুতিকয়েক ব্যাক্তির কাছে দুর্গম পাহাড়ী এলাকার মানুষগুলোর শ্রমশক্তি, উৎপাদন শক্তি জিম্মি। সম্প্রতি বাঃদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পাহাড়ের দুর্গম এলাকার দিনমজুর করে দিনে...

ম্রো পাড়ায় লকডাউন গেইট ভেঙে পুলিশের হয়রানিমূলক তল্লাশি ও গ্রেফতার| Tapan's Blog

Image
ম্রো পাড়া যেকোন মহামারির সময়ে খাসুর(গেইট বানিয়ে) দিয়ে পাড়া বন্ধ করে রাখা ম্রো সমাজের একটি ঐতিহাসিক প্রথা। বিভিন্ন মহামারি মোকাবেলায় ম্রো পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহাসিক প্রথা ম্রো সমাজে বর্তমানেও চলমান রয়েছে। ম্রো'রা নিজ সচেতনতার উৎস থেকে এই প্রথাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। দেশে যখন প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়, করোনা প্রাদুর্ভাবে যখন গোটা বিশ্ব মৃত্যুর মিছিলে নিঃস্তব্দ হয়ে যাচ্ছিলো, তারই প্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার একটি ম্রো পাড়ায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিজেদের পাড়া এবং পাড়ার মানুষদের করোনা থেকে দূরে রাখতে, সারা দেশে অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতিতে ম্রো পূর্বপুরুষদের দেখিয়ে দিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক প্রথাকে কাজে লাগিয়ে নিজ সচেতনতার জায়গা থেকে স্থানীয় ম্রোরা পাড়ায় ঢুকার প্রধান পথ'টি খাসুর(গেইট) দিয়ে বন্ধ করে রাখে। এবং সেই খাসুর বা গেইট'টি ভেঙে লামা থানা পুলিশ ম্রো পাড়ায় ঢুকে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক তল্লাশি চালিয়ে স্থানীয় দুই নিরীহ ম্রো'কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়য়!!! পুলিশের ভাষ্যমতে "মেরিডিয়ান কোম্পানি"র অভিযোগের ভিত্তিতে ম...

বৌদ্ধ ধর্মানুভূতিতে আঘাত: এক মুসলমান ভাইয়ের অযৌক্তিক মন্তব্য| Tapan's Blog

Image
ধর্মের সমালোচনা করা যাবেনা এমন কোন কথা নেই। আপনি সমালোচনা করুন, তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমালোচকদের সর্বাগ্রে একটা কথা পরিষ্কার মনে রাখা উচিৎ যে, সমালোচনা যাতে যৌক্তিক এবং গ্রহনযোগ্য হয়। এটাও মনে রাখতে হবে যে আপনার আমার কোন অযৌক্তিক সমালোচনার তীরে যাতে কোন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত না আসে। এখানে বাঙালী মুসলমান ভাইটি গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নীতি নিয়ে যা বলেছেন নিজের ফেইসবুক টাইম লাইনে আসলে তা একজন প্রকৃত যুক্তিবাদীর কোন যৌক্তিক সমালোচনার পর্যায়ে পরেনা। ভাইটি যে নাস্তিক সেটাও না। কারণ, আমি বারবার বলি নাস্তিকরা ধর্মের প্রতিকূলে থাকে ঠিক। কিন্তু নাস্তিকরা থাকে ধর্ম কিংবা কোন বিষয় বস্তু নিয়ে অযৌক্তিক সমালোচনা কিংবা বিদ্রুপ মন্তব্য করার সীমারেখার বাইরে। অযৌক্তিক সমালোচনার স্থান নাস্তিকতাবাদে নেই। প্রথম ছবিটিতে লক্ষ্য করুন। ভাইটি লিখেছে "বিশ্বব্যাপী Covid-19 সংক্রমণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যাপী এক গা ঘেষাঘেষি তাক মাথা ভিক্ষুদের সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করছেন বাসর রাতে যৌন কর্মে অক্ষম পলাতক গৌতম বুদ্ধ"!!! এই লেখায় কোন প্রমাণও রেখে যাননি ভাইটি। "বাস...

বেঁচে থাকুক বাউলবাদী দর্শন| Tapan's Blog

Image
অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে বাঃদেশে একদদল রহস্যবাদী সাধকের জন্ম হয়েছিলো। তাঁরা গান করতেন বেশির ভাগই আধ্যাত্মবাদী ও দেহত্ববাদী কথার সুরে। গানের মাধ্যমেই তারা তাদের মত বা দর্শন প্রচার-প্রসার করে গেছেন। মূলত অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া ঐ রহস্যবাদীরাই পরবর্তীতে পরিচিতি লাভ করলো "বাউল" সম্প্রদায় নামে।  অনেকেই মনে করেন মরমিবাদী দর্শনের সাথে বাউল দর্শনের অনেকটে যোগসূত্র আছে বা রয়েছে। তবে আমার ব্যাক্তি ধারণা অর্থাৎ আমি যা মনে করি তা হলো "মরমিবাদী" দর্শনের সাথে "বাউল" দর্শনের সেরকম কোন গভীর যোগসূত্র নেই। কারণ, মরমিবাদী দর্শন পরমসত্বার সাক্ষাত সাধন পেতে চাই। কিন্তু বাউলবাদী দর্শন পরমসত্বার সাক্ষাত নয় তারা প্রেমতত্বে বিশ্বাসী। বাউলেরা জগৎ সংসারকে উপেক্ষা করে অধ্যাত্মিক ধ্যানে মগ্ন থাকেন এবং সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন। হিন্দু, মুসলমান বলে বাউল দর্শনে কিছু নেই। উভয় সম্প্রদায়ই বাউল হয়। তারা জন্মগতভাবে কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান হলেও যখন বাউল ধর্মে দীক্ষিত হয় তখন তারা জাতি, ধর্ম, বর্ণ সম্প্রদায়ের উর্ধ্বে গিয়ে এক মহান মানবতাবাদী দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গী ...

দেশের সমস্ত গণশ্রমজীবি কারখানা ও পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা জরুরী

Image
দেশের সকল গণশ্রমজীবি কলকারখানা ও পর্যটন কেন্দ্র এখনো বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে কিনা(?) বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। করোনা'র প্রভাবে দেশের স্কুল, কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হলো। কিন্তু এখনো বন্ধ করে দেয়া হলোনা গণশ্রমজীবি কলকারখানা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো!!! অর্থনৈতিক সংকটের ভয়ে দেশের গণশ্রমজীবি কারখানার এতগুলো মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মূখোমূখী করার কোন মানে হয়না। মানুষগুলো বেঁচে থাকলে তবেই তো অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালি অবস্থানে দাড়াবে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে গতিশীল রাখতে হলে আগে দেশের মানুষদের বাঁচাতে হবে। দেশের মানুষদের জীবন অনিশ্চয়তার মূখে পতিত করে অর্থনৈতিক ভিত্তি গতিশীল রাখার চিন্তা করা অনর্থক। করোনা'র এই প্রভাবিত পরিস্থিতিতে শ্রমজীবি মানুষগুলোর কথা বাদ দিয়ে কেবল স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলে হবেনা। শ্রমজীবি মানুষগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের সকল কলকারখানাগুলোও অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা জরুরী। স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা হওয়ার পরপরই দেখা যাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক আনাঘোনা। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরছে। অবস...

মুক্তচিন্তার নক্ষত্র অভিজিৎ রায়; শ্রদ্ধাভরে স্মরণ| Tapan's Blog

Image
ড: অভিজিৎ রায় মুক্তমনের নক্ষত্র হারানোর 26'শে ফেব্রুয়ারি আজ! 2015 সালের 26'শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজকের এই দিনে 'একুশে বইমেলা' থেকে ফেরার পথে মৌলবাদী অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে বাংলাদেশী-মার্কিন প্রকৌশলী, মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগার, মুক্তমনা বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় ড: অভিজিৎ রায় দাদাকে এবং একই সাথে আহত করা হয় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকেও!!! বাংলাদেশ সরকারের সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন শ্রদ্ধেয় অভিজিৎ রায় দাদা। অবশ্যই অভিজিৎ রায় দাদাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলো বাংলাদেশের জঙ্গী সংগঠন "আনসারুল্লাহ বাংলা টিম"!!! কিন্তু অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য, অভিজিৎ রায় দাদা হত্যার বিচার এই 5টি বছরেও ন্যায়গতভাবে করতে পারেনি 30 লক্ষ শহীদের রক্তের উপর দাড়ানো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ! প্রকৃতপক্ষে এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে অভিজিৎ রায় দাদা হত্যার বিচার কখনোই হবেনা। কারণ এই রাষ্ট্র চেয়েছিলো মনেপ্রাণে অভিজিৎ রায় দাদার প্রাণ হরন করে দিতে। মুক্তচিন্তার অস্তিত্ব দেশের মাটি থেকে উৎখাত করতে!!! কিন্তু...

কবিতা: বিভেদ কেন?

Image
Posted by Tapan কবিতা:-বিভেদ কেন? কবি:-তপন চাকমা ============== অতি ক্ষন জীবন বয়সে জন্ম নিয়েছি পৃথিবীতে, কেন করি এত বিভেদ? পারিনা চলতে একসাথে। আজ আছি কাল নেই এটাই জগৎ নীতি, তবুও কেন বিভেদে মরি একি জীবনের রীতি? জগৎ পরিচয়ে মানুষ মোরা রক্ত মোদের লাল, ধনী গরীব সবাই সমান মোদের জীবন বিশাল। ওরে মহা মানুষ প্রাণী বিভেদ যাও ভূলে, অশান্তিকে দাও ছূঁড়ে ফেলে শান্তি নাও তুলে।

চিরুনি অভিযান পাহাড়ের সমস্যা সমাধান ও স্থায়ী শান্তির পথ নয়| Tapan's Blog

Image
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি একটি রাজনৈতিক সমস্যা।রাজনৈতিক সমস্যা যেহেতু, সেহেতু এই সমস্যার সমাধান একমাত্র রাজনৈতিক উপায়ে সম্ভব। পাহাড়ে ঝরছে তাঁজা প্রাণ!গত ১৮ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি,বান্দরবান,রাঙ্গামাটি) ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।নির্বাচনি দায়িত্ব শেষ করে জিপগাড়ি দিয়ে ফেরার পথে বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে ঝরে গেল ৭ জন নির্বাচনী কর্মকর্তার তাঁজা প্রাণ।তারপরের দিন ১৯ই মার্চ নির্বাচন সম্পন্ন করে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া থেকে বিলাইছড়ি সদরে ফেরার পথে 'তিনকোনিয়া' নামক এলাকায় মাইনাস হলো আরেকটি প্রাণ।তিনি ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা আ:লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা।এভাবেই ক্রমান্বয়ে ঝরছে পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার প্রাণ।বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানেও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের চরম আতংকের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় হাটতে হচ্ছে লাল রক্তে রঞ্জিত পাহাড়ের পিচ্ছিল পথে!!! পাহাড়ের এই অরাজক পরিবেশ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রনের নামে! সমাধান,স্থায়ী শান্তির নামে! পাহাড়ের নিরাপত্তাহীনতার আতংকে থাকা জুম্ম আদিবাসীদের উপর কঠোরপন্থায় অব্...

পাহাড়ের আদিবাসীদের ভয় আর আতংক| Tapan's Blog

Image
এখনো আতংকিত! এর থেকে আরো অধিকতর কঠিন আতংকে ও নিরাপত্তাহীনতায় আমাদের দিন অতিবাহিত করতে হবে! কখনো একবেলা খেয়ে বা না খেয়ে! সারাদিনের পরিশ্রম শেষে এখন আর ক্লান্ত শরীরকে স্বস্তি দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। ভয় আর আতংকের মধ্য দিয়ে রাত কাটাতে হয় বনে জঙ্গলে নিদ্রাবিহীন শারীরিক ক্লান্তিতে। কখন যে দেশদ্রোহিতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তকমা লাগিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ারে আমার দেহ অস্তীত্বহীন করে দেয় তার কোন ইয়ত্তা নেই।তাই ভয় আর আতংক থাকে সবসময়। এসব নাটকীয় গল্প কাহিনী নয়, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র কতৃক পাহাড়ের বুকে চলমান বর্তমান সময়ের রক্তাক্ত বাস্তবতা! অপ্রিয় সত্য কথা, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে এবং আমরা পাহাড়ের জুম্ম জাতিগোষ্ঠীরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন জনগন হিসেবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের যেসমস্ত মৌলিক অধিকার নিয়ে স্বাধীনতার সফলতা অনুভব করার কথা তার একচুল পরিমান পাহাড়ের পাহাড়ী মানুষদের অনুকূলে নেই! যা আছে সবটাই নৃসংশতা, বর্বরতা---------। আমরা পাহাড়ের মানুষ। আমরা শান্তি চাই। অশান্তি, নৃসংশতা, বর্বরতা আমাদের মোটেও ...

একটি আদিবাসী মায়ের কান্না| Tapan's Blog

Image
আদিবাসী মা নৃসংশতা, বর্বরতার আতংকে থাকা ছোট্ট শিশুটিও এখন প্রতিদিনের ন্যায় সময় ঘনিয়ে আসলে মা'কে বলে ওঠে "মা কখন পালাবো"। কারণ প্রত্যকটা দিন ঘর ছেড়ে বনে জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে থাকতে শিশুটির রীতিমত একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই শিশুটি সময় আসলে নিজ থেকে তার মা'কে বলে ওঠে "মা কখন পালাবো?"!!! একটি দিনের জন্য সন্তানকে কোলে রেখে নিজ ভিটেমাটিতে নিজ পরিশ্রমে গড়া ছোট্ট কূড়েঘরটিতে শান্তির পরশ খনিতে এখন আর মায়ের ঘুমানোর সুযোগ হয়ে উঠেনা।কখন না কখন জলপায়ীরা এসে বন্দুকের নল তাক করে সন্তানকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সন্তানের অস্তিত্বহীন নিথর দেহ'টি মাটিয়ে লুটিয়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়, সেই আতংক থাকে মায়ের ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে সবসময়! কখন যে নিজের স্বতিত্ত্বকে সন্তানের সম্মুখে হরন করে দেয়া হয়, সেই নিরাপত্তাহীনতায় মা থাকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর সংকিত।শধু এখানেই থেমে নেই, জলপায়ী নরপিশাচদের দানবিয় হিংস্র থাবায় স্বামী হারানোর ভয় থাকে সবসময়! ভাই হারানোর ভয় থাকে সবসময়! বোন হারানোর ভয় থাকে সবসময়! আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি হারানোর ভয় থাকে সবসময়। স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্...

আদিবাসী অস্তিত্বের সংকটময় পরিস্থিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রেক্ষাপথ| Tapan's Blog

Image
পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রেক্ষাপথ বিবেচনায় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব এখন চরম সংকটাপন্ন ও ক্রান্তির অবস্থানে দাড়ানো। পাহাড়ের প্রকৃতিও এখন বেশ হতাশ। যাপিত বাস্তবতার উপত্যকায় দাড়ানো জীববৈচিত্রতার আর্তচিৎকার। প্রকট ধ্বনিত পাহাড়ের ক্রন্দন। সবমিলিয়ে পাহাড় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা এবং পাহাড়ের সহজ সরল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্ব ব্যাপক হুমকির মূখে পতিত। একসময় পাহাড় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমির অনুকূলে বেশ সবুজ ছিলো, কিন্তু এখন আর নেই। সবুজ পাহাড়কে বিবর্ণ করা হয়েছে। চরম বিবর্ণ!!! যে বিবর্ণের হিংস্র ছাঁয়াই পাহাড়কে তিলে তিলে মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে পর্যবসিত হতে হচ্ছে। পাহাড়ের ভূমিপুত্র আদিবাসীরা একসময় তাদের জন্মভূমি পাহাড়ের বুকে প্রাণভরে উচ্ছাসিত নিশ্বাস নিতে পারতো, এখন আর সেটা পারেনা। সম্ভবও না। তাদের এখন স্বস্তির নিশ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে। দিনশেষে তারা তাদের স্বাতন্ত্র্য অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়ার শ্বাসকষ্টে ভোগে। 1971 সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে রাষ্ট্রের কাছে আদিবাসীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের অস্তিত্ব মৌলিভাবে সংরক্ষনের দাবি করে আসছিলো। কিন্তু রাষ...

পাহাড়ে পূর্বসংঘটিত হত্যাকান্ডের হালচাল| Tapan's Blog

Image
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৫ মার্চ ১৯৮০ সালে।ঐ দিন কাউখালী থানার সেনাকর্মকর্তা কলমপতি ইউনিয়নভুক্ত নোয়াপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরটির আসন্ন কিছু উৎসব উপলক্ষে মেরামতের বিষয়টি আলোচনার জন্য স্থানীয় জুম্ম গ্রামবাসীদের সমবেত হওয়ার নির্দেশ দেন।যখন গ্রামবাসীরা সমবেত হয় তখন সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য সমবেত গ্রামবাসীদের উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালায়।এতে আনুমানিক ৩০০ পাহাড়ী জুম্ম নিহত হয় এবং আরো অনেকেই আহত হয়।এরপর সেনাবাহিনীর সদস্য এবং নতুন বসতিকারী সেটেলার বাঙালীরা একযোগে কলমপতি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের উপর আক্রমন চালায়,বাড়িঘর লুন্ঠন করে,জ্বালিয়ে দেয় এবং ইউনিয়নের ৯টি বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস করে দেয়।২০ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা এবং মারধর করা হয়।তাছারা ৩০ জন জুম্ম নারীকে অপহরন করে ধর্ষণ করা হয়।এরপর ১৯৮১ সালের ২৫ জুন মাটিরাঙ্গা এবং বেলছড়ি এলাকার জুম্ম গ্রামগুলিতে যথাক্রমে আক্রমন চালানো হয়।এবং নির্বিচারে জুম্ম পাহাড়ীদের হত্যা করা হয়।শতশত বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং লুন্ঠন করা হয়।এতে কয়েকশত জুম্ম পাহাড়ি নিহত এবং আহত হয়।ঐ ঘটনার পর রামগড়,মাটিরাঙ্গা এবং তার আশপাশের গ্রামগুলি হতে ২০ হাজার জুম্ম পাহাড়ী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পালি...